অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের প্রায় সবাই তাঁদের ফোনে কোনও না কোনও ফাইল শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করেন। তাঁরা মূলত ব্যবহার করেন হয় শেয়ারইট কিংবা জেন্ডার। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে
শেয়ার করতে
যাচ্ছি ৩টা
বেস্ট ফাইল
শেয়ারিং এপ্লিকেশন। যে
এপ্লিকেশন গুলি এখনো পর্যন্ত বেস্ট
ফাইল শেয়ারিং
এপ্লিকেশন হিসাবে পরিচিত।
1.File Go By Google-----
এখন আর কেউ অপরিচিত নেই ফাইল গো এপ্লিকেশন নিয়ে যেটি গুগল ডেভলপ করেছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া সহ এশিয়ার ও দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশে ইন্টারনেট স্পিড ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলির তুলনায় অনেকটাই কম।
তা ছাড়া এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে অধিকাংশ লোক লো-এন্ড মোবাইল ফোন অর্থাৎ লো-স্পেসিফিকেশনের ফোন ব্যবহার করে। ওই দেশগুলিতে লো-এন্ড মোবাইল ফোনগুলির জন্য গত বছর গুগল লঞ্চ করেছিল তাদের Go সিরিজের একাধিক অ্যাপ।
গত বছর গুগল যে অ্যাপগুলি লঞ্চ করেছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল Files Go অ্যাপ। লো-এন্ড মোবাইল ফোনে যদি হেভি অ্যাপ অর্থাৎ যে অ্যাপগুলির মেমরি সাইজ খুব বেশি, সেগুলি ইনস্টল করা হয় তবে সেই অ্যাপগুলি ঠিকঠাক কাজ করে না। অনেক সময় ফোন হ্যাং করে। তাই Go সিরিজের অ্যাপগুলি লাইট অ্যাপ। Files Go অ্যাপটিও একটি লাইট অ্যাপ। এই অ্যাপটির সাইজ মাত্র ৮.2 MB।
এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা ফাইল শেয়ার করার জন্য কোন না কোন ফাইল শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে যেমন জেন্ডার বা শেয়ার ইট, একই রকম এটি হল একটি ফাইল শেয়ার করার জন্য উন্নত মানের একটি এপ্লিকেশন যেটি গুগল তৈরি করেছে।
শেয়ারইট বা জেন্ডার মূলত ফাইল শেয়ারিং অ্যাপ। কিন্তু গুগলের Fiels Go একটি ফাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আপনি একদিকে যেমন ফোনে ফাইল ম্যানেজমেন্টের যাবতীয় কাজ করতে পারবেন, তেমনি এর সাহায্যে অফলাইনে মোবাইল টু মোবাইল ফাইল শেয়ারিংও করতে পারবেন।
⇨ফাইল গো এপ্লিকেশন এর কিছু বিশেষ ফিচার-----
১.অফলাইন ফাইল শেয়ারিং---
এর অফলাইন ফাইল শেয়ারিং বা ফাইল ট্রান্সফার ফিচার। এই অপশনটি অবশ্য নতুন নয়। গতবছর গুগল যখন এই অ্যাপটি রিলিজ করেছিল, তখনই এর মধ্যে শেয়ারিং ফিচারটি ছিল। এই ফিচারের সাহায্যে শেয়ারইট বা জেন্ডার অ্যাপের মতো Files Go অ্যাপের সাহায্যেও এক ফোন থেকে অন্য ফোনে অফলাইনে ফাইল ট্রান্সফার করা সম্ভব। কিন্তু এবছর সেই ফিচারটি অনেকগুণ উন্নত করেছে গুগল।
শেয়ারইট অ্যাপের সাহায্যে আপনি অফলাইনে (অর্থাৎ ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া) এক ফোন থেকে অন্য ফোনে সর্বোচ্চ ২০ MBps (প্রতি সেকেন্ডে ২০ MB) স্পিডে ফাইল ট্রান্সফার বা শেয়ার করতে পারবেন। অন্যদিকে জেন্ডার অ্যাপের সাহায্যে আপনি সর্বোচ্চ ৪০ MBps স্পিডে ফাইল শেয়ার করতে পারবেন।
কিন্তু গুগলের Files Go অ্যাপের ফাইল শেয়ারিং স্পিড শেয়ারইট বা জেন্ডারের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। Files Go অ্যাপের শেয়ারিং স্পিড শেয়ারইট বা জেন্ডার অ্যাপের তুলনায় অ-নে-ক বেশি করেছে গুগল। সেই স্পিড কত জানেন? ৪৯০ MBps! এই স্পিড শেয়ারইট অ্যাপের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ এবং জেন্ডার অ্যাপের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি! তাহলেই বুঝুন কত দ্রুত গুগলের এই অ্যাপের সাহায্যে অফলাইনে ফাইল শেয়ার করা সম্ভব।
শুধু তাই নয়, গুগলের এই অ্যাপে রয়েছে বিশেষ WPA2 এনক্রিপশন ফিচার। অর্থাৎ এই অ্যাপের সাহায্যে আপনি যখন আপনার ফোন থেকে অন্য কারও ফোনে কোনও ফাইল শেয়ার করবেন, তখন অ্যাপটি সেই ফাইলটিকে এনক্রিপটেড করে পাঠাবে, ফলে অন্য কারও পক্ষে হ্যাক করে জানা সম্ভব নয় আপনি কাকে কী ফাইল শেয়ার করছেন।
৩.পুরানো ভার্সনেও সাপোর্ট---------
আর একটি সুবিধা হল এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েডের অনেক পুরানো ভার্সনেও কাজ করবে। অ্যাপটিকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ (ললিপপ) এবং তার পরবর্তী সমস্ত ভার্সন সাপোর্ট করে।
৪. স্টোরেজ -----
এই অ্যাপটির সাহায্যে আপনি ফোনের স্টোরেজ স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার ফোনের মেমরিতে এবং SD কার্ডের মেমরিতে কতটা স্পেস ফ্রি আর কতটা ফুল তা দেখতে পারবেন।
৫.ব্যাকাপ-----
ফোনে স্টোর করা ফাইলগুলিকে গুগল ড্রাইভ বা অন্য কোনও ক্লাউড স্টোরেজে স্টোর করার জন্য এই অ্যাপে আলাদা অপশন রয়েছে।
এই অ্যাপের সাহায্যে হোয়াটস্অ্যাপ সহ অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপের চ্যাট হিস্ট্রি এবং সেই মেসেজিং অ্যাপগুলির মাধ্যমে ফোনে ডাউনলোড হওয়া ইমেজ সহ মাল্টিমিডিয়া ফাইল, ডুপ্লিকেট ফাইল ইত্যাদি ডিলিট করতে পারবেন। এছাড়া ফোনের আনইউজড্ অ্যাপ অর্থাৎ যে অ্যাপগুলি ফোনে ইনস্টল করেছেন কিন্তু ব্যবহার করেন না, সেই অ্যাপগুলিও ডিলিট করতে পারবেন।
2.Xender-----
জেন্ডার অতিপরিচিত একটি ফাইল শেয়ার অ্যাপ্লিকেশন যে সমস্ত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মোবাইলে দেখা যায়। বেস্ট ৩টি ফাইল শেয়ারিং এপ্লিকেশন এরমধ্যে জেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন টিকে দ্বিতীয় নাম্বারে রাখা হয়েছে।
এখনো পর্যন্ত জেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন টি ফাইল গো এপ্লিকেশন এর থেকে অনেক বেশি ব্যাবহারকারি জেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন ইউজ করে কিন্তু জেন্ডার অ্যাপ্লিকেশনটি কিন্তু ফাইল গো তুলনায় যথেষ্ট স্লো। জেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন টি মাত্র 40 mbps স্পিড এ ফাইল সেন্ড বা রিসিভ করতে পারে। জেন্ডার অ্যাপ্লিকেশনটির বিশেষ কিছু ফিচার নেই।
এছাড়া অ্যাপ্লিকেশনটিতে এইসব ভাষা সাপোর্ট করে, ইংরেজি, আরবি, বাংলা, চীন , গ্রিক, হাঙ্গেরিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, ইতালীয়, জাপানীজ, কোরিয়ান, মালয়, থাই, তুর্কি, হিন্দি, জার্মান, পোলিশ, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, ভিয়েতনামিজ ইত্যাদি।
3. Shareit-------
নেট দুনিয়ার প্রথম ফাইল ট্রান্সফার অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে শেয়ারইট এর আবির্ভাব ঘটে ২০১৫ সালে এনিশেয়ার নামে, কিন্তু ২০১৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শেয়ারইট।
তখন থেকে নেট দুনিয়ায় বেশ একটা জায়গা করে নিয়েছে শেয়ারইট কিন্তু জেন্ডার আসার পরে শেয়ার ইট এর চাহিদা টা একটু হলেও কমে যায়, দিন যত যাচ্ছে টেকনোলজি উন্নত হচ্ছে আর মানুষ উন্নত টেকনোলজির দিকে ঝুকে পড়ছে।
এখনকার মানুষ উন্নত টেকনিক্যাল যুক্ত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে চায় কিন্তু শেয়ারইট যুগের সাথে তাল না মেলাতে পেরে নিজের জায়গা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে জেন্ডার আসার পরে শেয়ারইট এর চাহিদাটা ক্রমশ কমেই চলছে।
শেয়ারইট মাত্র ২০Mbps স্পিডে ফাইল রিসিভ এবং সেন্ট করে জেন্ডার তুলনায় অর্ধেক আর ফাইল গো অ্যাপ্লিকেশনের তুলনায় একশ ভাগের এক ভাগ।
শেয়ারইট কিছু নতুন ফিচার লঞ্চ করেছে যেগুলি হলো offline music offline video এবং নতুন নতুন trending music অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে আপনারা খুঁজে পাবেন কিন্তু শেয়ারইট এর মূল কাজ ছিল File সেন্ট এবং রিসিভ করা যেটাতে শেয়ারইট এখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
শেয়ারইট iSO অপারেটিং সিস্টেম, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, এবং উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে জেন্ডার এর মত শেয়ারইট অনেক দেশের ভাষা সাপোর্ট করে ।
তিনটি ফাইল শেয়ার অ্যাপ্লিকেশন এই ভালো কিন্তু সদ্য লঞ্চ হওয়া গুগল ফাইল গো অ্যাপ্লিকেশনটি, এই দুইটি এপ্লিকেশন জেন্ডার এবং শেয়ারইট থেকে অনেকটাই ভালো বলে মনে করছে নেট দুনিয়ার টেকনিশিয়ানরা।





No comments:
Post a Comment