আমরা প্রায় সবাই গুগলের জিমেল ব্যবহার করে থাকি, আমরা হয়তো জানিনা যে গুগল তাদের জিমেলে অনেক নতুন নতুন আপডেট এনেছে। গুগল জিমেইল এর এই নতুন ফিচার গুলি দেখলে আপনি হয়তো স্থি অবাক হবেন! শুধু নতুন ফিচার আনাই নয়, জিমেলের ইনবক্স ইন্টারফেসও এখন আর আগের মতো নেই, সেটাও পালটে ফেলেছে গুগল। প্রায় পাঁচ বছর পর গুগল তাদের অন্যতম বড় প্রোডাক্ট জিমেলে একসঙ্গে এত চেঞ্জ নিয়ে এল।
⇒ নতুন
জিমেল কীভাবে এনাবেল করবেন?
প্রথমে বলি কীভাবে নতুন জিমেল
ইউজার ইন্টারফেস এবং ফিচার এনাবেল করবেন। ডেস্কটপ কম্পিউটারে প্রথমে নিজের জিমেল অ্যাকাউন্টে সাইনইন করুন। এবার
স্ক্রিনের উপর ডানদিকে গিয়ার আইকনে ক্লিক করুন। গিয়ার আইকনে ক্লিক করার পর একটি
মেনু লিস্ট ওপেন হবে।
সেই লিস্টের একেবারে উপরে রয়েছে ‘Try the new Gmail’ অপশন। সেই অপশনে ক্লিক করুন। কয়েক মিনিট পর আপনার ডেস্কটপে
জিমেলের নতুন ইন্টারফেস শো করবে।
এই নতুন ইন্টারফেসে আগের ইন্টারফেসের তুলনায় অনেকটাই বড়, নতুন ইন্টারফেস ওপেন হওয়ার পর। ডেস্কটপের ডান দিকের প্যানেলে একাধিক নতুন বাটন আপনার চোখে পড়বে।
যেমন, ‘Calendar’,
‘Keep’ এবং ‘Tasks’। এছাড়া সেখানে দেখতে পাবেন একটি প্লাস সাইন। সেটিতে ক্লিক করলে একটি নতুন উইনডো ওপেন হবে। সেখানে রয়েছে একাধিক অ্যাডঅন অর্থাৎ অ্যাপ, যেগুলির সাহায্যে আপনি জিমেলে নানা বিশেষ সুবিধা পাবেন যেমন, আপনি যাঁকে মেল পাঠিয়েছেন, তিনি সেই মেলটি কবে কখন ওপেন করে পড়েছেন তা জানতে পারবেন, কিংবা কারও মেল পেয়েছেন কিন্তু উত্তর দেওয়ার সময় নেই, আপনার হয়ে অ্যাডঅন রিপ্লাই দিয়ে দেবে ইত্যাদি।
আপনি যখন ইনবক্সের মেল লিস্টে নির্দিষ্ট কোনও মেলের
উপর যখন মাউজের কার্সার রাখবেন তখন মেলের পাশে চারটি
অপশন শো করবে। সেগুলি হল ‘Archive’, ‘Delete’, ‘Mark as
read’ এবং‘Snooze’। প্রথম তিনটি অপশন আগের ইন্টারফেসেও ছিল।
কিন্তু‘Snooze’ অপশনটি নতুন। ধরুন আপনি কোনও
মেল পেলেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে আপনার হাতে সময় নেই মেলটির উত্তর দেওয়া। ঠিক করলেন
যে, পরে উত্তর দেবেন। কিন্তু অনেক সময় আমরা পরে উত্তর দিতে ভুলে যাই। এই সমস্যার
সমাধান করবে ‘Snooze’অপশন।
এই অপশনে ক্লিক করলে আপনি সেই বিশেষ
মেলটিকে কত ঘণ্টা বা কতদিনের জন্য ‘Snooze’ করবেন তা সিলেক্ট করতে পারবেন। ধরুন আপনি ঠিক করলেন আপনি বাহিরের কাজ শেষ করে রাত ৮টা নাগাদ মেলটির উত্তর
দেবেন। সেক্ষেত্রে‘Snooze’ অপশনের মাধ্যমে রাত ৮টা সিলেক্ট করলে মেলটি আপনার ইনবক্স থেকে তখনকার মতো মুছে যাবে কিন্তু ঠিক রাত
৮টা নাগাদ সেই
মেলটি ফের আপনার ইনবক্সে আবার শো করবে এবং আপনাকে উত্তর দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে।
আরও একটি গুরত্বপূর্ণ সিকিউরিটি ফিচার
নতুন জিমেল ইন্টারফেসে রয়েছে। যদি আপনার ইনবক্সে আসা কোনও মেলে ভাইরাস রয়েছে বা
সন্দেহজনক লিঙ্ক রয়েছে বলে গুগলের সিকিউরিটি ফিচার মনে করে, তা হলে সেই মেল ওপেন
করতে গেলে লাল রঙে ওয়ার্নিং মেসেজ শো করবে — ‘This message seems dangerous’ এবং সেই ওয়ার্নিংয়ের নীচে মেলটি
ডিলিট করার জন্য‘Delete now’ বাটন থাকবে।
এছাড়া আরও একটি নতুন ফিচার জিমেলে অ্যাড করা হয়েছে। সেটি হল ‘Nudge’। এই ফিচারটি AI বেসড। অর্থাৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এই ফিচারটি কাজ করে। ধরুন আপনার বন্ধুর পাঠানো একটি মেল সাত দিন হল ইনবক্সে এসে পড়ে রয়েছে কিন্তু আপনি উত্তর দেননি।
সেক্ষেত্রে এই ফিচারটি ইনবক্সের লিস্টে সেই মেলের পাশে মেসেজ শো করবে — ‘Received 7 days ago. Reply?’। কিংবা ধরুন, কাউকে সাত দিন আগে মেল পাঠিয়েছেন, কিন্তু এখনও কোনও রিপ্লাই পাননি, সেক্ষেত্রে এই ফিচারটি আপনার সেন্ট মেলের পাশে মেসেজ শো করবে — ‘Sent 7 days ago. Follow up?’
নতুন
জিমেল ইন্টারফেসের ‘Confidential mode’ ফিচারটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি হইচই হচ্ছে বা যে ফিচারটি অত্যন্ত বিতর্কিত কেন
বিতর্কিত, কেন হইচই হচ্ছে, সেটা নিয়ে
এখন আলোচনা করবো -
⇒ Confidential mode (কনফিডেনটিয়াল মোড)
এই মোড ব্যবহার করে আপনি যদি
কাউকে কোনও মেল পাঠান, তবে সেই ব্যক্তি মেলটি পড়তে পারবেন, কিন্তু মেলটি কপি করতে
পারবেন না, কাউকে ফরওয়ার্ড করতে পারবেন না, মেলটির প্রিন্ট আউট নিতে পারবেন না,
এমনকী মেলটির সঙ্গে কোনও অ্যাটাচমেন্ট ফাইল থাকলে সেটি ডাউনলোড করতে পারবেন না।
শুধু তাই নয়, মেলটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই ডিলিট হয়ে যাবে।
⇒ কনফিডেন্সিয়াল মোড কিছু বৈশিষ্ট্য-
1. ভেরিফিকেশন ফিচার⇨
কনফিডেনশিয়াল মোডে কাউকে মেল পাঠানোর সময়
আপনি টু স্টেপ ভেরিফিকেশন ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ যাঁকে মেলটি পাঠাবেন,
তাঁর মেলটি পড়তে হলে OTP (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) প্রয়োজন
হবে।
2. টাইম
সেট করুন⇨
কনফিডেনশিয়াল বাটনে ক্লিক করলে ‘Set Expiration’ অপশন আসবে। মেলটির এক্সপায়ারি ডেট কী হবে (অর্থাৎ পাঠানোর কতদিনের মধ্যে মেলটি
নিজে থেকে ডিলিট হয়ে যাবে) তা সিলেক্ট করার অপশন হল এটি। এক্সপায়ারি ডেট সবচেয়ে কম
১ দিন এবং সবচেয়ে বেশি ৫ বছর সেট করতে পারবেন।
3. রিমুভ অ্যাকসেস অপশন⇨
ধরুন আপনি ভুল করে যাকে মেল্ পাঠাবেন তাকে নাপাটিয়ে অন্য একজনকে পাটিয়ে ছেন, তবে ইনবক্সের সেন্ট মেল অপশনে গিয়ে সেই
নির্দিষ্ট মেলটিতে ক্লিক করুন। এবার সেখানে দেখবেন‘Remove
Access’ অপশন রয়েছে। সেই অপশনে ক্লিক
করলে ভুল করে যাঁকে মেলটি পাঠিয়েছেন সেই ব্যক্তি কোনওভাবেই মেলটি ওপেন করতে পারবেন
না।
4. টু স্টেপ ভেরিফিকেশন⇨
টু স্টেপ ভেরিফিকেশনের জন্য ‘Require
Passcode’ অপশনের নীচে‘sms
passcode’ অপশনটি সিলেক্ট করার পর যাঁকে
মেলটি পাঠাচ্ছেন তাঁর মোবাইল ফোন নম্বর আপনাকে টাইপ করতে হবে। সেই ব্যক্তি যখন
আপনার পাঠানো মেলটি ওপেন করতে যাবেন, তখন গুগল সার্ভার থেকে তাঁর ফোনে OTP যাবে। সেই OTP ইনপুট করার পরেই সেই ব্যক্তি আপনার পাঠানো মেলটি ওপেন
করতে পারবেন।



No comments:
Post a Comment