আমাদের
দেশ উন্নত
হচ্ছে, তার
সাথে উন্নত
হচ্ছে মানুষ
আর প্রযোক্তি। আমরা
প্রতিনিয়ত প্রজক্তির সাথে অবোধ।
ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান উন্নতির ফলে সত্যিই
আমাদের দৈনন্দিন
কম্পিউটিং চাহিদাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজকাল
তো শুধু
একটি ওয়েব
ব্রাউজারের মধ্যেই সারাটাদিন আর সকল
কম্পিউটিং চাহিদা গুলো মেটানো যায়।
তাই
ওয়েব ব্রাউজার
গুলো দিন
দিন আরোবেশি
গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম হিসেবে স্থান অধিকার
করছে।
যদি ওয়েব
ব্রাউজার নিয়ে
কথা বলা
হয়, সেক্ষেত্রে
মূলত তিনটি
ব্রাউজারের নাম সবার আগে সামনে
আসে; মোজিলা
ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, এবং ইন্টারনেট
এক্সপ্লোরার বা আজকের লেটেস্ট মাইক্রোসফট
এজ ব্রাউজার। এছাড়া
আরো অনেক
ব্রাউজার রয়েছে
যেগুলো আমরা
ভুলেও ব্যবহার
করে দেখি
না।
অপেরা (Opera)- ব্রাউজারটি ২০ বছরের বেশি পুরাতন আর পূর্বে এটি প্রেস্টো ইঞ্জিনের উপর কাজ করতো, যেটা পরিবর্তন করে ২০১৩ সালে বিলিঙ্ক ক্রোমিয়াম নির্ভর ইঞ্জিনের উপর অপেরাকে নতুন করে ডেভেলপ করা হয়। ওপেরাতে সত্যিই কিছু উপকারি আর বেস্ট ফিচার যুক্ত করা রয়েছে, ফলে একে সহজেই আপনার কম্পিউটারের জন্য অল-ইন-ওয়ান ব্রাউজার বললে ভুল হয়না।
আমার প্রথম ইন্টারনেট ব্রাউজিং অপেরার হাত ধরেই হয়ে এসেছে, ২০০৭ সাল থেকে পিসিতে আর ২০০৯ সাল থেকে মোবাইলে অপেরা ব্যবহার করে আসছিলাম, তবে আমি এখন পার্সোনালভাবে অপেরা তেমন ব্যবহার না করলেও আমার কাছে সকল উপকারি ফিচারে প্যাকড বা জেটপ্যাক ব্রাউজার হচ্ছে এই অপেরা।
বর্তমানে অপেরার সবচাইতে আলোচিত ফিচারটি হচ্ছে এর বিল্ডইন ভিপিএন সার্ভিস, সেটা একেবারেই ট্রু ভিপিএন বা পেইড সার্ভিস গুলোর মতো সেবা প্রদান করে এই ভিপিএন মোটেও ইন্টারনেট স্পীড স্লো করে না। পূর্বে অপেরাতে ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহার করা যেতো না, কিন্তু এখন এটি ক্রোমিয়াম নির্ভর ব্রাউজার হওয়াতে, এতে ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারবেন।
ইয়ানডেক্স ব্রাউজার (Yandex Browser) ২০১২ সালে ইয়ানডেক্স ব্রাউজার প্রথম মার্কেটে আসে, আর বর্তমানে এর ক্রোস প্ল্যাটফর্ম আর অনেক কুল ফিচার সহজেই অনেক ইউজারের মন কেড়ে নিয়েছে। উইন্ডোজ, ম্যাক, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, লিনাক্স সকল প্ল্যাটফর্মের জন্যই এই ব্রাউজার প্রাপ্য।
ইয়ানডেক্স হলো রাশিয়ান ইন্টারনেট কোম্পানি, যাদের সার্চ ইঞ্জিন পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম। তাদের অফিশিয়াল ক্রোমিয়াম নির্ভর ব্রাউজারটি দেখতে স্ট্যান্ডার্ড ব্রাউজারদের মতো না লাগলেও এতে যথেষ্ট ক্রোমিয়াম ফিল পেতে পাড়বেন।
এই ব্রাউজারটির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বা বলতে পারেন ইউনিক ফিচারটি হচ্ছে ডিএনএস ক্রিপ্ট (DNSCrypt) এর মানে এই ডিএনএস সার্ভার থেকে ডাটা সেন্ড বা রিসিভ করার সময় রিকোয়েস্ট গুলোকে এনক্রিপটেড করিয়ে তারপরে সেন্ড বা রিসিভ করে।
এই ব্রউজারটি ওয়েব সাইটের থিম এবং কালার অনুসারে নিজের থিম কালার পরিবর্তন করে। ওপেরা ব্রাউজারের মতো এতে টার্বো মুড রয়েছে, যেটা স্লো ইন্টারনেট কানেকশনে কমপ্রেশন ম্যাথড ইউজ করে ব্রাউজিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং ফাস্ট করার চেষ্টা করে। সাথে আপনি যে ফাইলই ডাউনলোড করবেন, সেটা ক্যাস্পারস্কি অ্যান্টিভাইরাস দ্বারা স্ক্যান হয়ে ডাউনলোড হবে।
ইউসি ব্রাউজার (UC Browser) ২০১৫ সাল থেকে ডেক্সটপ ভার্সনও রয়েছে। মোবাইল প্ল্যাটফর্মে ইউসি ব্রাউজার সবচাইতে জনপ্রিয় একটি ব্রাউজার। যতো ক্রোমিয়াম ব্রাউজার রয়েছে, তাদের তুলনায় এই ব্রাউজার দেখতে একটু ভিন্ন রকমের সাথে অনেক থিম ব্যবহার করতে পাড়বেন।
ব্রাউজারটিতে বেস্ট ফিচার হচ্ছে, এতে পোর্টেবল হটস্পট তৈরি করার সুবিধা রয়েছে, যদিও উইন্ডোজ ১০ এ ডিফল্টভাবেই ল্যাপটপ বা পিসি থেকে নেট শেয়ার করে ওয়াইফাই হটস্পট বানানো যায়, কিন্তু উইন্ডোজ ৭ বা ৮.১ এ ইউসি ব্রাউজারের এই সুবিধাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।
এই ব্রাউজারের ডাউনলোড ফিচারটি অনেক পাওয়ারফুল, সত্যিই অনেক দ্রুত যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করার ক্ষমতা রাখে এই ব্রাউজারটি। এতে ডিফল্ট স্ক্রীনশট টুল রয়েছে, যেটা অনেকের কাছেই উপকারি একটি ফিচার। ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্টমেন্ট, নাইট মুড, লিঙ্ক প্রি-লোডিং, নেক্সট পেজ প্রি-লোডিং ইত্যাদি আরো অসংখ্য ফিচার রয়েছে এই ব্রাউজারটিতে।
ভিভালডি (Vivaldi) ২০১৬ সালে প্রথম মার্কেটে সম্পূর্ণ ভার্সন রিলিজ করে, মানে আলাদা ব্রাউজার গুলো থেকে বয়সে এটি অনেক তরুণ ব্রাউজার।
ভিভালডি একটি ফ্রীওয়্যার, এটি
সম্পূর্ণ ক্রোমিয়াম প্রোজেক্টের উপর তৈরি। এই ক্রোস প্ল্যাটফর্ম ব্রাউজারটি কিন্তু
এর বয়সের কথা ভেবে এর ফিচারের যেন ক্রোমের মতোই এটি অনেক পাওয়ার ফুল এবং কুল লুকিং একটি ওয়েব ব্রাউজার।
যেহেতু ব্রাউজারটি একেবারেই নতুন, তাই এখনো অনেক ফিচারের উপর কাজ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে অবশ্যই আরো অনেক অসাধারণ ফিচার যুক্ত করা হতে পারে ব্রাউজারটিতে। আর এই অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রাউজারটি বেশ জনপ্রিয়তা হাসিল করে নিয়েছে, আজকের অনেক টেক গীক আর অ্যাডভান্স ইউজারদের কাছে ভিভালডি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্রাউজার।
ব্রাউজারটির ইউজার ইন্টারফেসের উপর সরাসরি বেশ কিছু কাস্টমাইজেশন করতে পাড়বেন, এর থিম কালার পরিবর্তন করতে পাড়বেন এবং ব্রাউজারটি ওয়েব পেজের কালার অনুসারে ইউজার ইন্টারফেসের কালার থিম পরিবর্তন করতে পারে। এর সবচাইতে অসাধারন ফিচারটি হচ্ছে আপনি ট্যাব গ্রুপিং করতে পাড়বেন, সাথে আরো অনেক টাইপের ক্যাস্টম ফিচার তো থাকছেই।






No comments:
Post a Comment